জেলা পরিচিতি

জয়পুরহাট

জয়পুরহাট রাজশাহী বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় একটি জেলা, যা কৃষি, সীমান্তবর্তী বাজার, চিনি ও খনিজ-সংযুক্ত শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ প্রত্নস্থানের নিকটতার জন্য পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ৯৬৫.৪৪ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২২ আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৯৫৬,৪৩১। জয়পুরহাট শহর জেলা সদর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

বর্তমান আবহাওয়া

হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

তাপমাত্রা২৭.২°C
বাতাসের গতি৫.৬ km/h
আপডেট০১:৪৫

নামাজের সময়সূচি

ফজর০৪:২৮
সূর্যোদয়০৫:৩৬
যোহর১২:০৯
আসর১৫:৩৮
মাগরিব১৮:৪৩
ইশা১৯:৫০

সর্বশেষ সংবাদ

এই জেলার সাম্প্রতিক খবর

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

জয়পুরহাট রাজশাহী বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় একটি জেলা, যা কৃষি, সীমান্তবর্তী বাজার, চিনি ও খনিজ-সংযুক্ত শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ প্রত্নস্থানের নিকটতার জন্য পরিচিত। এর আয়তন প্রায় ৯৬৫.৪৪ বর্গকিলোমিটার এবং ২০২২ আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা ৯৫৬,৪৩১। জয়পুরহাট শহর জেলা সদর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যকেন্দ্র।

ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

জয়পুরহাটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বৃহত্তর উত্তর-পশ্চিম বঙ্গের সীমান্তভূমির অংশ এবং নিকটবর্তী বৌদ্ধ ও মধ্যযুগীয় বসতি-ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। আধুনিক প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে বিকশিত হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে এটি জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কৃষি, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং উত্তর বাংলার প্রত্নঐতিহ্য ও গ্রামীণ ইতিহাসের সঙ্গে এর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

ভৌগোলিক পরিচিতি

অবস্থান: ভারত সীমান্তসংলগ্ন রাজশাহী বিভাগের উত্তরাংশ।

সীমানা

  • উত্তর: দিনাজপুর ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত)
  • দক্ষিণ: নওগাঁ
  • পূর্ব: বগুড়া ও উত্তরাঞ্চলীয় গাইবান্ধামুখী এলাকা
  • পশ্চিম: নওগাঁ ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত)

ভূপ্রকৃতি: নিম্ন সমভূমি, কৃষিজমি, গ্রামীণ জনবসতি এবং সামান্য ঢেউখেলানো উত্তরাঞ্চলীয় ভূমিরূপ এই জেলার বৈশিষ্ট্য।

প্রধান নদী ও জলব্যবস্থা: কৃষিভিত্তিক ভূদৃশ্যজুড়ে ছোট আঞ্চলিক নদীখাত, নিম্নাঞ্চলীয় অববাহিকা ও মৌসুমি জলাশয়।

প্রশাসনিক কাঠামো

জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪

জেলা সদর: জয়পুরহাট

উপবিভাগ: ৫টি উপজেলা

এই ডেটাবেসে বর্তমান উপজেলাগুলো আলাদাভাবে upazilas টেবিলের মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জনসংখ্যা ও সমাজ

জনসংখ্যা (২০২২): ৯৫৬,৪৩১

খানা: ২৬৯,৯০৫

শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা: প্রায় ২২৪,১৮১

জনঘনত্ব: প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৯৪৫ জন

সাক্ষরতার হার (৭+): ৭৩.৭৩%

জাতিগত জনসংখ্যা: ২৬,৩২৫ (২.৭৫%), যার মধ্যে ওঁরাও, বর্মণ, মুণ্ডা, সাঁওতাল, কুদুমি মাহাতো ও বেদিয়া সম্প্রদায় উল্লেখযোগ্য।

ধর্ম: জেলাটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ; পাশাপাশি হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও রয়েছে।

শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠান

জয়পুরহাট একটি বিকাশমান জেলা-ভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র, যা রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর একাডেমিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।

উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান

  • জয়পুরহাট সরকারি কলেজ
  • জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজের আঞ্চলিক শিক্ষাপ্রভাব
  • পাঁচটি উপজেলাজুড়ে জেলা-ভিত্তিক স্কুল ও কলেজ

উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান

  • ইনস্টিটিউট অব মাইনিং, মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালার্জি (আইএমএমএম), বিসিএসআইআর
  • রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে আঞ্চলিক প্রবেশাধিকার
  • কৃষি ও শিল্পভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

স্থানীয় গুরুত্ব: আক্কেলপুর, জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি জেলার শিক্ষা-পরিসরে বিশেষ অবদান রাখে।

অর্থনীতি ও সংস্কৃতি

অর্থনৈতিক চরিত্র: কৃষি, চিনি, খনিজ-সংযুক্ত কার্যক্রম, স্থানীয় বাণিজ্য এবং পরিবহন জয়পুরহাটের অর্থনীতিকে সমর্থন করে।

কৃষি ও উৎপাদন: ধান, গম, আলু, কলা, পোলট্রি এবং আখ গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্য ও শিল্প: জয়পুরহাট সুগার মিল এবং খনিজ গবেষণা-সংক্রান্ত কার্যক্রম জেলার অন্যতম পরিচিত শিল্পপরিচয়।

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান

  • নিকটবর্তী সোমপুর মহাবিহার অঞ্চল
  • আক্কেলপুর ও পাঁচবিবির ঐতিহ্যবাহী বাজার
  • স্থানীয় মন্দির, মসজিদ ও গ্রামীণ ঐতিহ্যভূমি

সাংস্কৃতিক স্মৃতি: জয়পুরহাট উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি, মিষ্টান্ন এবং উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের বিস্তৃত প্রত্নভূমির সঙ্গে যুক্ত।